খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চট্টগ্রামে চা বিক্রেতার মেয়ের উচ্চ শিক্ষার দায়িত্ব নিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে চা বিক্রেতার মেয়ের উচ্চ শিক্ষার দায়িত্ব নিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রামে অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা এক চা বিক্রেতার মেয়ের উচ্চ শিক্ষার দায়িত্ব নিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে না পারা এক বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ অসহায় ও বিপন্ন মানুষের নানা সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

২৪ জুন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা তাঁদের সমস্যা ও আবেদন তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েকজন প্রবাসী অনলাইনে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও আবেদন জানান।

গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম।

গণশুনানিতে বোয়ালখালীর উত্তর চরণদণ্ডী এলাকার এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর বাবা শাহ আলম একজন ক্ষুদ্র চা বিক্রেতা। পরিবারের সীমিত আয়ের কারণে ভর্তি ফি ও অন্যান্য ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। শিক্ষার্থী জানান, গত বছরও তিনি রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র ১০ হাজার টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারেননি। এবারও একই ধরনের অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়ে জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হন। বিষয়টি শুনে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম তাঁর উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেন। জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে শিক্ষার্থী বলেন, মানুষের মুখে তাঁকে মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে শুনেছিলেন, আজ নিজের জীবনে তার বাস্তব প্রমাণ পেলেন।

 

 

এদিকে পটিয়া উপজেলার ধলঘাট এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন দস্তিদার চিকিৎসা সহায়তার আবেদন নিয়ে গণশুনানিতে উপস্থিত হন। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনিতে পাথর ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন তিনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাঁর হার্টে জরুরি ভিত্তিতে রিং বসানোর পরামর্শ দিলেও অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। বিষয়টি শুনে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। গণশুনানিতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিবন্ধী নারী সানজিদা চৌধুরী, যিনি স্তনের লাম্প অপারেশনের জন্য আর্থিক সহায়তা চান। স্ট্রোকে আক্রান্ত ছানোয়ারা বেগম চিকিৎসা ব্যয় বহনে অক্ষমতার কথা জানান। স্বামীর পরিত্যাগের শিকার নুরুন্নাহার বেগম জীবিকা নির্বাহের জন্য সহায়তা প্রার্থনা করেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত আবুল বশর মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী নিয়মিত স্পিচ থেরাপি চালিয়ে যেতে না পারার কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ ইদ্রিছ জরাজীর্ণ বসতবাড়ি সংস্কারের জন্য এবং সাবেক হিফজখানার শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ আবুল হোসেন জীবিকা নির্বাহের জন্য ছোট ব্যবসা শুরু করতে আর্থিক সহায়তা কামনা করেন।

 

অনলাইনে যুক্ত হয়ে সৌদি আরবপ্রবাসী মো. শওকত মিয়া তাঁর আমানত রাখা ১ লাখ ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল আত্মসাতের অভিযোগ করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী মোহাম্মদ আবুল কালাম পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ও পরিবারের সদস্যদের হুমকির অভিযোগ জানান। একই দেশ থেকে যুক্ত হওয়া মোহাম্মদ হোসেন বকেয়া বেতন না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মোরশেদ পারভেজ পারিবারিক কবরস্থান নির্মাণের জন্য একটি আংশিক ভরাট পুকুর সম্পূর্ণ ভরাটের অনুমতি চান। গণশুনানিতে উপস্থাপিত প্রতিটি আবেদন মনোযোগ দিয়ে শুনে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তার আবেদনগুলো দ্রুত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

চট্টগ্রামে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নিয়মিত গণশুনানির মাধ্যমে প্রবাসীসহ সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ায় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম ইতোমধ্যে স্থানীয় মানুষের কাছে ‘মানবিক ডিসি’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।