ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত গাজা দখলে নিতে পারবেন?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাকে ‘দখল’ করে ‘নিজস্বভাবে পরিচালনার’ একটি বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছেন। তার এই পরিকল্পনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে। প্রতিবাদ জানিয়েছে সৌদি আরব, চীন, রাশিয়া, স্পেনসহ বিশ্বের বহু দেশ ও সংগঠন। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত গাজা দখলে নিতে পারবেন? ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলে তার এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত?
ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য
গত ৪ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউজে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আমরা গাজা দখল করবো এবং একে নতুনভাবে গড়ে তুলবো। আমরা সেখানে অবিস্ফোরিত বোমা ও অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করবো এবং দীর্ঘমেয়াদে এর নিয়ন্ত্রণ নেবো। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে গাজায় মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। গাজার জনগণকে উচ্ছেদ করে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জোরপূর্বক দখল হিসেবে গণ্য হবে, যা জেনেভা কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। ইসরায়েলি হামলায় গাজা এরই মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ১৫ মাসের সংঘাতের পর গাজার দুই-তৃতীয়াংশ অবকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত। সেখান থেকে অনেক ফিলিস্তিনি হয়তো পালিয়ে যেতে চাইতে পারেন, তবে অনেকেই আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে বা ঐতিহাসিক সংযুক্তির কারণে গাজা ছাড়তে চান না। গাজার অধিকাংশ বাসিন্দা ১৯৪৮ সালের ‘নাকবা’ বা মহাবিপর্যয়ের সময় বাস্তুচ্যুত হওয়া ফিলিস্তিনিদের বংশধর, যারা ইসরায়েলের সৃষ্টি ও দখলদারত্বের শিকার হয়েছিলেন। ফলে তাদের জন্য আরেক দফা উচ্ছেদ মেনে নেওয়া কঠিন হবে। ট্রাম্পের মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি মূলত ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে সরে যেতে উৎসাহিত করছেন। তবে জোরপূর্বক উচ্ছেদ বা গণ-নির্বাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।



আপনার মতামত লিখুন