খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

সম্প্রীতিই হোক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সোপান

ড. আব্দুল ওয়াদুদ
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
সম্প্রীতিই হোক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সোপান

সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা আদর্শ সমাজ গঠনের দুটি অপরিহার্য ভিত্তি। এ অত্যাবশ্যকীয় দুইটি উপাদানের অভাব কেবল সংঘাতের সৃষ্টি করে না, বরং ব্যক্তিগত ও সামাজিক প্রগতিকে ব্যাহত করে। বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক, বহুধর্মীয় এবং বহুসংস্কৃতির দেশ। এখানে সহমর্মিতা, সহযোগিতা এবং সহাবস্থান কেবল সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ নয়; এটি আমাদের জাতীয় পরিচয়েরও অন্যতম ভিত্তি।

সমাজে বৈষম্য ও শোষণ সম্প্রীতির অন্যতম প্রধান শত্রু। যখন কিছু মানুষ আর্থিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিকভাবে বঞ্চিত হয়, তখন তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সেক্ষেত্রে ঐক্য সমাজের প্রতিটি সদস্যকে সমান অধিকার দেওয়ার প্রচেষ্টা চালায় এবং বৈষম্য দূর করতে সহায়ক। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে, মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করতে এবং সম্মান করতে শিখে, যা বৈষম্য দূরীকরণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ঐক্যই শান্তির ভিত্তি। ঐক্য মানুষের মধ্যে মৈত্রী এবং সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটায়। যখন মানুষ একে অপরকে বুঝতে পারে এবং সম্মান করে, তখন সংঘর্ষের সম্ভাবনা কমে যায়। সমাজের সব স্তরের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হলে, ঐক্যবদ্ধ সমাজে শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এটি যেকোনো ধর্ম, জাতি, বা সংস্কৃতির মধ্যে ভেদাভেদ দূর করতে সহায়ক। সুতরাং, বাংলাদেশের মতো একটি বহুত্ববাদী সমাজে ঐক্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

সম্প্রীতি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ও মানসিক অবস্থানও বটে। তাই সুষম সম্প্রীতির জন্য ঐক্য মনোভাবটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজে ছড়িয়ে দিতে হবে। মানুষকে ছোটবেলা থেকেই সহনশীলতা, সহমর্মিতা, এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা শেখানো উচিত। এটি সমাজের শুদ্ধতা এবং শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করতে সাহায্য করবে। কারণ সংঘর্ষের সময় সাধারণত একতা ও সহযোগিতার অভাব থাকে। যখন একটি সমাজ বা জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তখন তাদের মধ্যে সংঘর্ষ কমে যায় এবং সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যক্তিগত স্বার্থের পরিবর্তে সমষ্টিগত ভালোর দিকে নজর দিলে, একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

নদীর মত রাজনীতিরও গতিপথ পরিবর্তিত হয়। বহতা নদীর বাকবদল হয় সময়ের আবর্তনে আর রাজনীতির বাকবদল হয় জনগণের সামষ্টিক ইচ্ছার পরিবর্তনে। একটি সমাজে মতের মিলের পাশাপাশি অমিলও থাকবে, মানুষ সেসব মিল ও অমিলের ভেতর ঐক্যের খোঁজ করবে, তারপর একটি মঙ্গলজনক সমাধান খুঁজে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে, সৌহার্দ্য বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যাবে। এটাই গণতান্ত্রিক সমাজের রেওয়াজ। দ্বান্দ্বিক সম্পর্কে আবদ্ধ মানুষের সঙ্গে মানুষ, মানুষের সঙ্গে প্রকৃতি। ভিন্ন দুই ক্ষেত্র। উভয় ক্ষেত্রেই আছে সম্পর্কের নানা স্তর। তুলনা করে দেখলে গভীর কিছু মিল-অমিল চোখে পড়ে। বিষয়টা ভেবে দেখবার যোগ্য।

মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কটা হতে পারে সহযোগিতার, প্রতিযোগিতারও। সীমাবদ্ধ সম্পদের বণ্টন নিয়ে ঘটে দ্বন্দ্ব। সম্পদের বর্ধনের জন্য প্রয়োজন হয় সহযোগিতা। জীবনের পথ মসৃণ নয়; প্রশ্ন ওঠে বারে বারে ঘটনার বাঁকে বাঁকে, সহযোগিতা কি সম্ভব? সংঘর্ষ কি অনিবার্য? সম্ভাবনা রয়েছে একাধিক, কী ঘটবে সেটা নির্ভর করছে কিছুটা কী ভাবা হচ্ছে তার ওপর। ‘যাদৃশী ভাবনা যস্য সিদ্ধির্ভবতি তাদৃশী।’ দৃঢ়ভাবে কিছু ধরে নিলে ভিন্ন ভাবনা তখন ভুল মনে হয়, ভুল অথবা সেই সময়ের জন্য অবাস্তব।

আমাদের সামাজিক বৈষম্য কমাতে হবে। মনে রাখতে হবে, ক্ষমতাকেন্দ্রিক দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি দিয়ে সামাজিক বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়। যায়নি এত বছরেও। দরিদ্র মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হলে সমাজ ও রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজের মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। তারা যেন আরও বেশি পরিশ্রমী ও কর্মঠ হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। আজ চীনের পোশাকশ্রমিকেরা যে দক্ষতা অর্জন করেছে, সেটা যদি বাংলাদেশের শ্রমিকেরা করতে না পারে, আর শুধু ইন্ধন পেয়ে রাস্তায় আন্দোলন করতে থাকে, তাহলে আরও কারখানা বন্ধ হবে, লাখ লাখ লোক বেকার হবে এবং সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়বে। সমাজে যা ঘটে তা কার্যকারণের সূত্র মেনেই ঘটে।

তাই সমাজ ও রাষ্ট্রে সহিষ্ণুতা, উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে যুক্তি ও জ্ঞানের আলোকে মানুষের মনোজগৎ গঠনের পাশাপাশি, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে আন্তরিক হতে হবে। লুটপাটতন্ত্রকে জীবিত রেখে, লোভ-লালসার সঙ্গে আপস করে কখনো ভালো সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করা যায় না। আন্দোলন ও সচেতনতার ভেতর দিয়ে যদি আমরা নতুন প্রগতিশীল সমাজ সৃজন করতে পারি, তাহলে রাষ্ট্র স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ভালো ফল দিতে শুরু করবে।

একটি দেশ তখনই প্রকৃত উন্নয়নের পথে এগোয়, যখন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব স্তরে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক গতিশীলতা, কর্মসংস্থান ও উন্নতির জন্য বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবে নানা রকম সমস্যায় বছরের পর বছর বিদেশি বিনিয়োগ অনেকটাই গতিহীন। জিডিপির হিসাবে বেসরকারি বিনিয়োগ তিন বছর ধরে কমছে বলে জানা গেছে। অথচ এখানে বিনিয়োগের বিস্তৃত ক্ষেত্র রয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডা’র মতে, কাঠামোগত প্রচারণার অভাবে বিনিয়োগের এই হাল। বিদেশি বিনিয়োগের বড় বাধা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা; এতে বিনিয়োগকারীরা বিমুখ হন। এ বাধা দূর করা আবশ্যক। দেশ সার্বিকভাবে স্থিতিশীল হলে এবং নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা ও বিনিয়োগ করা অর্থের রিটার্ন নিশ্চিত করতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে যদিও কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কিন্তু বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো না গেলে এসব পদক্ষেপ কি আদৌ টেকসই হবে? দেশে বেসরকারি বিনিয়োগের হার বেশ কয়েক বছর ধরে নিম্নগামী। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ক্রমবর্ধমান খরচ, উচ্চ সুদের হার, তারল্য সংকট ও চাপের মুখে থাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থা উন্নয়নের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, আগের সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এমন অনেক ব্যবসায়ী এখন কার্যক্রম বন্ধ করেছেন অথবা সমস্যায় পড়েছেন, যা বিনিয়োগকে আরও নিরুৎসাহিত করছে। নিরবচ্ছিন্ন উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার ব্যবসার খরচ বাড়িয়েছে। যার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণ পাওয়া ও তাদের ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটানো আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসব সমস্যার মোকাবিলায় সরকারকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। পাশাপাশি, মূল্যস্ফীতি কমানো ও ব্যবসা করার পথে বাধাগুলোকে দূর করার বিষয়েও জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। অসংখ্য স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীর মতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু নীতিমালা বিনিয়োগ পরিপন্থী। সরকারের উচিত বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব নীতিমালাকে আরও ব্যবসাবান্ধব করে তোলা। এ ছাড়া, চলমান সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নীতিমালা সংস্কার ও প্রণয়নের সময় বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা খুবই জরুরি।
উৎপাদন ব্যবস্থায় অংশীদারত্ব হিসেবে শ্রমের মূল্যায়ন সরাসরি স্বীকৃত না হলেও এটি অনিস্বীকার্য যে কোনো উৎপাদন ও উন্নয়ন উদ্যোগে ভূমি, শ্রম ও পুঁজি ছাড়াও মালিক-শ্রমিক সব পক্ষের সমন্বিত ও পরিশীলিত প্রচেষ্টাই সব সাফল্যের চাবিকাঠি। আর বর্তমানে আধুনিক শিল্প ও বাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ বিবেচনা ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে করপোরেট কালচার। মূলত মানবসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়াসকে সমাজবিজ্ঞানীরা করপোরেট কালচারের প্রেরণা হিসেবে চিহ্নিত করেন। এটাকে শিল্পোন্নত বিশ্বে স্থান-কাল-পাত্রভেদে উন্নয়ন ও উৎপাদনে সবাইকে একাত্মবোধের মূল্যবোধে উজ্জীবিত করার প্রেরণা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশেও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্নে গোটা দেশবাসীর একই ভাববন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জরুরি। এজন্য সমাজে কিংবা সংসারে এমনকি যেকোনো কায়কারবারে সবার সুচিন্তিত মতামত প্রকাশের সুযোগ, কর্তব্য পালনে দৃঢ়চিত্ত মনোভাব পোষণ, অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার ঐকান্তিক প্রয়াস প্রয়োজন। সমর্পিতচিত্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস যেমন জরুরি মনে করা হয়, তেমনি জাতীয় উন্নয়নের প্রচেষ্টায়ও সমন্বিত উদ্যোগ আবশ্যক। জাতীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগে থাকা চাই প্রতিটি নাগরিকের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অবদান। অপচয়-অপব্যয় রোধ, লাগসই প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমিত সম্পদের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এজন্য সবার মধ্যে আগ্রহ ও একাগ্রতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠা দরকার। নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। নিষ্ঠা অর্জনের জন্য সাধনার প্রয়োজন, প্রয়োজন ত্যাগ স্বীকারের। দায়দায়িত্ব পালন ছাড়া স্বাধীনতার সুফল ভোগের দাবিদার হওয়া বাতুলতা মাত্র। ‘ফেল কড়ি মাখ তেল’ কথাটি এক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রযোজ্য। কারণ উৎপাদনে সক্রিয় অংশগ্রহণ না করেই ফসলের ন্যায্য অধিকারপ্রত্যাশী হওয়া, তা পাচার-লুণ্ঠন সংগত কর্ম ও ধর্ম নয়। কোনো কিছু অর্জনে বর্জন বা ত্যাগ স্বীকার যেমন জরুরি, তেমনি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মাঝে বাস্তবতা জানান দেয় যে ‘বিনা দুঃখে সুখ লাভ হয় কি মহিতে?’ তাছাড়া অপচয়-অপব্যয়, তহবিল তছরূপ যেকোনো সবল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধারাকেও দ্বিধান্বিত ও বাধাগ্রস্ত করে। এসব রোধে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।

সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার মেলবন্ধনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কেবল নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় নয়, বরং কার্যকর গণতান্ত্রিক চর্চায় নিহিত। সংসদে বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা, আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সুশাসন– এসব উপাদান মিলেই একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলে। কিন্তু এই ক্ষেত্রগুলোতে আজও অনেক প্রশ্ন, অনেক সংশয়। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মতপ্রকাশে প্রতিবন্ধকতা কিংবা প্রশাসনের রাজনৈতিক ব্যবহারের অভিযোগ– এসবই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষীণ করে। আবার বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সহিংসতা, ধ্বংসাত্মক আচরণও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নষ্ট করে। বড় আশার কথা, দেশের তরুণ প্রজন্ম রাজনৈতিক সচেতন হয়ে উঠছে। সামাজিক মাধ্যমে তাদের অংশগ্রহণ, নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ কিংবা দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব, সবই রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে নতুন রূপ দিতে পারে। এই তরুণ শক্তিই হতে পারে ভবিষ্যতের পরিবর্তনের বাহক।

বাংলাদেশের অর্থনীতি যেমন কৃষকের মাঠ থেকে শিল্পাঞ্চলে গড়ে উঠেছে, ঠিক তেমনি রাজনীতির ক্ষেত্রেও দরকার মাটির ঘ্রাণ, জনগণের সত্যিকারের অংশগ্রহণ। দলীয় আদর্শ ও নীতির ভিত্তিতে রাজনীতি গড়ে উঠলে ব্যক্তি বা পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্ব নয়, গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব বিকশিত হলে, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। বিশ্ব রাজনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে প্রয়োজন স্বচ্ছ নির্বাচন, কার্যকর নির্বাচন কমিশন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও আজ রাজনীতির গুণগত মানের দিকে তাকিয়ে আছে, শুধু ভোটের সংখ্যার দিকে নয়।

গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন নয়, এটি একটি সংস্কৃতি, যেখানে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা, সংলাপের প্রতি বিশ্বাস এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা থাকা চাই। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ যেন এক স্নিগ্ধ প্রভাতের দিকে এগিয়ে যায়, যেখানে নদীর মতোই প্রবহমান গণতন্ত্র, মাঠের ফুলের মতোই সহিষ্ণু রাজনীতি, আর আকাশের পাখির মতোই মুক্ত মতপ্রকাশ।

বর্তমানে দেশে যে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা চলছে, তা দূর করার ক্ষেত্রে অবিলম্বে নির্বাচনের বিকল্প নেই। আর সেই নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। গণতন্ত্রে জনগণের রায়ই চূড়ান্ত কথা। এ ক্ষেত্রে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বাক্স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ করার ক্ষেত্রে যেসব আইনি বাধা আছে, সেগুলো বাতিল করতে হবে। একটি কার্যকর ও টেকসই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইলে সংবিধানে বর্ণিত প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। এবারের অঙ্গীকার হোক বিভেদ নয়, ঐক্য; বিদ্বেষ নয়, সম্প্রীতিই হোক বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সুবর্ণ সোপান।

লেখক : ফিকামলি তত্ত্বের জনক,
শিক্ষাবিদ, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক,
ওয়াইল্ডলাইফ বিশেষজ্ঞ।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।