বিএনপি’র ৩১ দফা, যুব আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ
বাংলাদেশে যুব বলতে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সের ছেলে-মেয়েদের বোঝানো হয়। যুবশক্তি আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সম্পদ। দ্রুত কমতে থাকা জন্মহার ও জনসংখ্যার বয়সগত রূপান্তর (demographic transition) বাংলাদেশের জন্য একটি সোনার সুযোগ( যদি আমরা এই সুযোগ বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে দক্ষ প্রাণবন্ত শ্রমশক্তিতে পরিণত করতে পারি। এ প্রবন্ধটিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের তথ্য ছাড়াও গুগল ফর্ম ব্যবহার করে প্রাথমিক পর্যায় থেকে ৬৬৩ জন যুবক-যুবতীর উপর একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়( যার কিছু ফলাফল এখানে দেখানো হয়েছে।
২০২২ সালের জনশুমারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনমিতিক লভ্যাংশ (demographic dividend) স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী (১৫-৬৪ বছর) ৬৫.৫৩ শতাংশে পৌঁছেছে যা ২০১১ সালের তুলনায় ৪.৯১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, জনসংখ্যার নির্ভরশীলতার অনুপাত ২০২২ সালে ৫২.৬৪-এ নেমে এসেছে (প্রতি ১০০ কর্মক্ষম ব্যক্তির বিপরীতে নির্ভরশীল), যা ২০১১ সালে ছিল ৭৩.০০। উপরোক্ত তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশ বর্তমানে “ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সোনালী সময়” এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ( যা সঠিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সদ্ব্যবহার করা গেলে দেশ দ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে।
তবে কিছু বাধা-বিপত্তাও রয়েছে। ২০২২ সালের জনশুমারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে যাদের আমরা যুব বলে থাকি, যাদের বয়স ১৫ বছর থেকে ২৪ বছর, তারা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৯.১১ শতাংশ, যা সংখ্যার হিসাবে প্রায় ৩ কোটি ১৬ লাখ। তবে এই বয়সী (১৫ থেকে ২৪ বছর) যুবক-যুবতীদের মধ্যে শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের সাথে যুক্ত নয় (NEET) জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮ লক্ষ, যা উক্ত বয়সী গ্রুপের ৩৪.২৬%। এর মধ্যে ছেলে রয়েছে প্রায় ১৯ লক্ষ ৬৪ হাজার (১৩.২৮%) এবং মেয়ে রয়েছে প্রায় ৮৮ লক্ষ ৪৬ হাজার (৫২.৭৬%)। গ্রামাঞ্চলে এই সংখ্যা ৭৭ লক্ষ ২৭ হাজারের মতো (৩৬.৯৬%) এবং শহরাঞ্চলে যা ৩০ লক্ষ ৮৪ হাজার (২৮.৯৬%)। বয়সভিত্তিক দেখলে ১৫-১৯ বছরের মধ্যে এই জনসংখ্যা প্রায় ৪৩ লক্ষ ৩০ হাজার (২৬.১৪%) এবং ২০-২৪ বছরের মধ্যে ৬৪ লক্ষ ৮০ হাজার (৪৩.২৩%) NEET। বিভাগভিত্তিক বণ্টন দেখলে সিলেটে সর্বোচ্চ ৩৭.৯৭% (৮ লক্ষ ৯৭ হাজার) এবং ঢাকায় সর্বনিম্ন ৩০.৮১% (২৭ লক্ষ ৫৫ হাজার)। জেলা ভিত্তিক ঢাকা এবং গাজীপুরে এই হার সবচেয়ে কম, যা ৩০ শতাংশের নিচে। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি বা ৪০ শতাংশের উপরে এই হার রয়েছে চারটি জেলায়, যেগুলো হচ্ছে লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী এবং সুনামগঞ্জে।
এছাড়াও, সরকারি শ্রমবাজার জরিপ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্টে যুব বেকারত্ব ও শিক্ষা-সংক্রান্ত ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদন দেখা যায়। বাংলাদেশে ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে বেকারত্ব খুব বেশি না হলেও সংখ্যায় কম না। ২০২৪ সালের বিবিএস (BBS) এর জরিপ অনুযায়ী, এই বয়সের ১৩ লাখ লোক বেকার দেখা যাচ্ছে, যা মোট বেকারের (২৬ লাখ) প্রায় অর্ধেক। এর মধ্যে ২৫-৩৪ বছরের ৯.১৬ লাখ এবং ৩৫+ বছরের ৩.৭৯ লাখ রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরে বাংলাদেশে টারশিয়ারি (উচ্চ-মাধ্যমিকের পর) পড়ুয়াদের মোট প্রবেশ অনুপাত বৃদ্ধি পাচ্ছে; ২০২৩ সালে বাংলাদেশে টারশিয়ারি গ্রস এনরোলমেন্ট (gross enrolment) প্রায় ২৩.৭% রেকর্ড করা হয়েছে। এটি বিশ্ব গড়ের তুলনায় এখনও পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিক উন্নতির ইঙ্গিত বহন করে। ২০২৫ সালে, বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক থেকে একাধিক প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পেয়েছে, যার লক্ষ্য হলো বাণিজ্য, জব ক্রিয়েশন ও সোশ্যাল প্রোটেকশন ও স্কিল ট্রেনিং বাড়ানো এগুলো যুবদের জন্য সরাসরি সুফল বয়ে আনতে পারে। আজকের যুবদের প্রধান আকাঙ্ক্ষা হলো যোগাযোগ, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা হয়ে ব্যবসা বা স্টার্টআপ গড়ে তোলা, এছাড়া, সরকারি চাকরি এবং নিরাপদ আয় তাদের মূল আকাঙ্ক্ষা । তবে আকাঙ্ক্ষা ও নৈকট্যের ফারাক (aspiration–opportunity gap) রয়েছে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সত্ত্বেও চাকরির বাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতার সাথে তাদের শিক্ষার মিল থাকে না; ফলে অনেক তরুণ ‘NEET’ (শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা কর্মে অনুপস্থিত) শ্রেণিতে পড়ে যায় অথবা অযথা অদক্ষ কাজে আটকে থাকে। এক্ষেত্রে, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার বিষয় হিসাবে ৭০% যুব মনে করেন দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণে রাজনৈকিত দল ও সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে; ৪৮% যুব আইটি ও ডিজিটাল ইনোভেশন এবং ৩৩% শিক্ষাক্ষেত্রকে ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন।

বাংলাদেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জের মধ্যে ৪৩% যুব বেকারত্বকে, ২৫% দুর্নীতি ও বৈষম্যকে এবং ২২% দক্ষতার ঘাটতিকে প্রধান সমস্যা মনে করেন। অন্যদিকে, ৯৫% যুব নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যুবদের অংশগ্রহণ জরুরি মনে করেন। যুবদের ভবিষ্যৎ ভাবনায়- ৫৫% যুব দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ দেখতে চান; ২০% প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত দেশ, ১৫% সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমান সুযোগসম্পন্ন দেশ এবং ১০% পরিবেশবান্ধব সবুজ বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেন। যুবরা এমন একটি ন্যায়সংগত, দক্ষ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে সততা, স্বচ্ছতা, প্রযুক্তি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবন হবে জাতীয় অগ্রগতির মূল ভিত্তি। যুবদের উপরোক্ত ভাবনাসমূহ ২০২৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের ৩১ দফার সংস্কার কর্মসূচির মধ্যে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। ৩১ দফা কর্মসূচির ২৩ নম্বর দফায় উল্লিখিত “আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন”( যেখানে যুব সমাজের ভিশন, চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হইবে। যে নীতিমালা অনুযায়ি এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান করা হইবে। বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে নানামুখী বাস্তবসম্মত কর্মসূচি গ্রহণ করা হইবে। যুব সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি (Skill development) করে “ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড” আদায়ের লক্ষ্যে দৃশ্যমান প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হইবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়া মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করা হইবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অনুয়ায়ী সরকারি চাকুরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি বিবেচনা করা হইবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ যুবরা কতটুকু জানে? জরিপের তথ্যানুযায়ী মাত্র ৩৩ ভাগ যুব এ বিষয়ে অবগত বাকী ৬৭ ভাগ যুব বিষয়টি জানে না। ফলে বিষয়টি যুবদের মধ্যে অত্যধিক প্রচারের দাবি রখে।
সার্বিকভাবে, যুবরা মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ এবং দক্ষতাভিত্তিক কাজে যুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান সংকটের একটি প্রধান কারণ হলো ‘কর্মসংস্থান-মেলফিট’। অর্থাৎ, শিক্ষিত তরুণরা তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি পাচ্ছেন না; ফলে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন নিম্নমানের বা অপ্রাসঙ্গিক কাজে যুক্ত হতে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দক্ষতার অভাব, কারণ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো বাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। বিশেষ করে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের ঘাটতির কারণে অনেক তরুণ আধুনিক পেশায় প্রবেশ করতে পারছেন না। তাছাড়া, সামাজিক সুরক্ষা ও ট্রানজিশন সাপোর্টের অভাবও একটি বড় সমস্যা—শিক্ষানবিশদের জন্য বেকারভাতা, স্টার্টআপ সাপোর্ট বা প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি সীমিত। উপরন্তু, নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম ( যেটি বিবিএস এর NEET তথ্য থেকেও প্রতিয়মান। বিশেষ করে গ্রামীণ ও রক্ষণশীল এলাকায় মেয়েদের শিক্ষা গ্রহন ও শ্রমবাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ এখনো পর্যাপ্ত নয়। শিক্ষা থেকে কর্মে ট্রানজিশন সহজ করা উচিত, যার জন্য উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ ও অন-জব প্রশিক্ষণের নীতি প্রবর্তন করা দরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কারিকুলামে প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বাড়ালে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে, যা চাকরিতে প্রবেশকে সহজ করবে। অগ্রসর স্কিল-ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে আইটি, গ্রীন জব, ম্যানুফ্যাকচারিং, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিক্স খাতে দ্রুত প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা প্রয়োজন। এসব কোর্সে আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন যুক্ত করলে প্রশিক্ষণার্থীদের দক্ষতা যাচাই সহজ হবে এবং বিদেশি শ্রমবাজারেও তাদের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

অস্থায়ী সহায়তা হিসেবে বেকার ভাতা ‘Unemployment Allowance’ শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা হিসেবে নয়, বরং ট্রেনিং ও ক্যারিয়ার সাপোর্টের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে, যাতে প্রাপকরা ভবিষ্যতে কর্মযোগ্য হয়ে ওঠেন। উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে মাইক্রো-গ্রান্ট, সহজ অনুদান, মেন্টরশিপ, ‘one-stop’ রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা ও কর সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। বিশ্বব্যাংকের চলমান ‘Jobs and Trade’ প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করলে এই উদ্যোগগুলো আরও কার্যকর হবে। নারীর সুযোগ বৃদ্ধির জন্য নারীদের শিক্ষায়, নিরাপদ পরিবহনে, স্কিল ডেভেলপমেন্টে ও নারী উদ্যোক্তা প্রোগ্রামে আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা বাড়াতে হবে। এতে করে বর্তমানে শিক্ষা বা কর্মক্ষেত্রের বাইরে থাকা (NEET) নারীদের পুনরায় কর্মক্ষেত্রে যুক্ত করা সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক মান বিবেচনায় সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা কিছুটা বাড়ানো তরুণদের জন্য সহায়ক হবে। তবে, এটি অবশ্যই দক্ষতা-ভিত্তিক পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকা উচিত। একই সঙ্গে, এই পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব শ্রমবাজারে কীভাবে পড়বে তা সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে যুবসমাজ শুধু কর্মসংস্থানে নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবেও পরিণত হতে পারবে। ছোট ও মাঝারি মেয়াদের (Short-term) উদ্যোগ হিসেবে যুবদের দ্রুত কর্মক্ষম করে তুলতে স্থানীয় পর্যায়ে স্কিলবেসড হেকাথন, মাইক্রো-ইন্টার্নশিপ এবং স্থানীয় উদ্যোগভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি (৩–৬ মাস) প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণরা স্বল্প সময়ে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে (PPP) দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র ও কর্পোরেট ট্রেনিং মডিউল চালু করা হলে প্রশিক্ষণগুলো আরও বাস্তবসম্মত ও বাজারমুখী হবে।
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে দীর্ঘমেয়াদে যুব উন্নয়নের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে শিক্ষা-কোর্স ও কর্মবাজারের পূর্ণ সামঞ্জস্য (education-to-employment matching) গড়ে তোলা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি, ডিজিটাল বায়োমেট্রিক বা ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি-ভিত্তিক দক্ষতা যাচাই ও টার্গেটিং ব্যবস্থা চালু করলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও দক্ষতাভিত্তিক করা সম্ভব হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে বৈষম্য হ্রাস করা—যাতে মেয়েরা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের যুবসমাজ ও প্রতিবন্ধী তরুণরাও সমানভাবে কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারে। বাংলাদেশের যুবরা উচ্চাকাঙ্খী, সাবলীল ও প্রযুক্তিদক্ষ হতে আগ্রহী। সরকারের নীতিমালা (যেমন সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা, বেকারভাতা, স্কিল-কমপোনেন্ট ইত্যাদি) এবং আন্তর্জাতিক/স্থানীয় বিনিয়োগ (যেমন ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রকল্প) যদি সঠিকভাবে মিলিয়ে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে, বিশেষ করে NEET জনসংখ্যাকে সত্যিকারের প্রত্যয় ও অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। তা ছাড়া যুবদের কণ্ঠস্বর নীতিনির্ধারণে স্থান পাবে—তখনই ‘ভবিষ্যত বাংলাদেশ’ তাদেরই হাত ধরে নির্মিত হবে।
লেখক: মোহাম্মদ সফি উল্যাহ, অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চেয়ারম্যান, ফাউন্ডেশন ফর জিওইন্টেলিজেন্স পলিসি সাপোর্ট



আপনার মতামত লিখুন